,

শ্যামনগরে জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণে কৃষকদের মাঝে উন্নত জাতের ধান বীজ ও জৈবসার বিতরণ

মোঃ আল আমিন গাজী,শ্যামনগর প্রতিনিধিঃজলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, বন্যা ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন বর্তমানে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। এই প্রতিকূলতা মোকাবিলায় স্থানীয় কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে উন্নয়ন সংগঠন ‘লিডার্স’ জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকদের মাঝে লবণ, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধান বীজ এবং জৈবসার বিতরণ করেছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় লিডার্স-এর প্রধান কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘Climate Adaptation of High Risk Coastal Communities through Empowerment (CARE)’ প্রকল্পের আওতায় এই বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রকল্পটি ‘ব্রেড ফর দ্যা ওয়ার্ল্ড’-এর আর্থিক সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হচ্ছে।
লিডার্স-এর ফিন্যান্স ডিরেক্টর জনাব আনোয়ার রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লিডার্স-এর কার্যকরী সদস্য জনাব রনজিত কুমার বর্মন, আটুলিয়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব মো. সামছুর রহমান এবং উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জনাব আশালতা।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের পরিচিতি তুলে ধরে লিডার্স-এর প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর জনাব মুহাম্মদ মঞ্জুরুল হক বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন ক্রমেই হুমকির মুখে পড়ছে। এমতাবস্থায় লবণ, খরা ও বন্যা সহিষ্ণু ধানের জাত সম্প্রসারণ এবং জৈবসারের ব্যবহার বৃদ্ধি কৃষকদের উৎপাদনশীলতা ও অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জনাব ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় কৃষকদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তি ও জলবায়ু সহনশীল জাতের ফসল চাষে আগ্রহী হতে হবে। সরকারি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমের পাশাপাশি লিডার্স-এর মতো উন্নয়ন সংস্থার এ ধরনের উদ্যোগ উপকূলীয় কৃষিকে টেকসই ও লাভজনক করতে বিশেষ অবদান রাখবে।”

আলোচনা সভায় বক্তারা লবণাক্ততা ও বন্যাজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি অনুসরণ এবং রাসায়নিক সারের পরিবর্তে জৈবসারের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, জৈবসারের ব্যবহার মাটির গুণাগুণ রক্ষা করবে, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস করবে এবং একটি পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

লিডার্স-এর এগ্রিকালচার অ্যান্ড লাইভলিহুড অফিসার মো. ফয়সাল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লিডার্স-এর সিনিয়র অ্যাকাউন্টস অফিসার রায়হান কবির, প্রজেক্ট অফিসার মাসুমা খাতুন, অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট অ্যান্ড লজিস্টিক অফিসার শম্পা রানী দাসসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং উপকারভোগী কৃষকবৃন্দ।

উল্লেখ্য, লিডার্স-এর ‘কেয়ার’ (CARE) প্রকল্পের আওতায় চলতি আমন মৌসুমে খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার বটিয়াঘাটা, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলার ৩৫০ জন জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ কৃষকের মাঝে মোট ৩,৫৪০ কেজি লবণ ও বন্যা সহিষ্ণু ধান বীজ এবং ৩,৫৪০ কেজি জৈবসার বিতরণ করা হবে। উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং তাদের অভিযোজন সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে লিডার্স দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *